‘মসজিদের ক্ষতি হবে না, ভাঙা হবে খালি জায়গা!’ ওয়াকফ সম্পত্তি প্রমাণ করতে পারলে মিলবে ক্ষতিপূরণ: সুপ্রিম কোর্ট

গুজরাতের আমদাবাদে অবস্থিত ৪০০ বছর পুরোনো মানসা মসজিদের একাংশ ভেঙে রাস্তা চওড়া করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত অনুমোদন দিল। গুজরাত হাইকোর্ট আগেই এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছিল। শুক্রবার বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে হাইকোর্টের সেই রায়ই বহাল রাখা হয়। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পুরসভা জনস্বার্থেই রাস্তা চওড়া করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমদাবাদের সরসপুরে অবস্থিত মানসা মসজিদের কিছুটা খালি জায়গা এবং একটি প্ল্যাটফর্মের কিছু অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। মূল নির্মাণে হাত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

পুরসভার যুক্তি: আমদাবাদ পুরসভার আইনজীবী আস্থা মেহতা জানান, রাস্তা তৈরির জন্য মসজিদের পাশাপাশি একটি মন্দিরও ভাঙা হয়েছে এবং বসত বাড়ি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তিকেও ভাঙার তালিকায় রাখা হয়েছে। বাসিন্দারা জনস্বার্থে স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়: বিচারপতিরা বলেন, “হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন দেখছি না আমরা। বিশেষ করে রাস্তা চওড়া করতে যেখানে মন্দির, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং বসত বাড়িকেও ভাঙার তালিকায় রাখা হয়েছে।”

মানসা মসজিদ ট্রাস্টের আইনজীবী ওয়ারিশা ফরাসত অভিযোগ করেন, মসজিদটি একটি ঐতিহাসিক নির্মাণ, সেটি ভাঙলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগে আঘাত করা হবে। তিনি দাবি করেন, ট্রাস্টকে বিষয়টি জানানো হয়নি। যদিও আমদাবাদ প্রশাসন জানায়, ট্রাস্টকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং তাদের এক প্রতিনিধি পুরসভায় হাজিরাও দিয়েছেন।

তবে ৪০০ বছর পুরনো ওই মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনো রায় দেয়নি। বরং আদালত জানিয়েছে, মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি বলে যদি প্রমাণ করা যায়, সেক্ষেত্রে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হবে। এর আগে গত ৩ অক্টোবর গুজরাত হাইকোর্টও মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy