২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে গিয়েছে। আর এই পালাবদলের নেপথ্যে যে প্রধান শক্তিটি কাজ করেছে, তা হলো ‘নারী শক্তি’। সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এক সময় যে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের তুরুপের তাস, ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ভোটই কার্যত কাল হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের জন্য।
পুরুষদের টেক্কা দিয়ে বুথমুখী মহিলারা ভারতের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে রাজ্যে ভোটদানের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতবার যেখানে ভোট পড়েছিল ৮১.৬ শতাংশ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৭ শতাংশে। এর মধ্যে পুরুষদের ভোটদানের হার বেড়েছে ১০.৭ শতাংশ, কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১২ শতাংশ। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২৩২টিতেই পুরুষদের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। মাত্র ৬১টি আসনে পুরুষদের আধিপত্য লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বিজেপির জয়ে নারী শক্তির ভূমিকা ইন্ডিয়া টুডে-র ডেটা ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যে আসনগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া, সেখানেই ফুটেছে পদ্মফুল। ২০২১ সালে ৭৭টি আসনে থমকে যাওয়া বিজেপি এবার ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। তথ্য বলছে:
যে ৯৯টি আসনে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার ১ থেকে ৩ শতাংশ বেশি ছিল, তার মধ্যে ৭৪টিতেই জিতেছে বিজেপি।
যেখানে এই ব্যবধান ৩ থেকে ৬ শতাংশ ছিল, সেখানকার ৪৫টি আসনের মধ্যে ৩৬টিতে জয়ী হয়েছে গেরুয়া শিবির।
যেখানে ব্যবধান ৬ শতাংশের বেশি ছিল, সেই ১৫টি আসনের মধ্যে ১২টিই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে।
হাতছাড়া হলো তৃণমূলের গড় সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে কান্দি আসনে। এখানে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা ১৮.৭ শতাংশ বেশি হারে ভোট দিয়েছেন। ফলাফল? তৃণমূলের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। একই ছবি দেখা গিয়েছে খড়গ্রাম (১২.৭ শতাংশ বেশি মহিলা ভোট) এবং বর্ধমানেও (১২.৪ শতাংশ বেশি মহিলা ভোট)। এক সময় মনে করা হতো বাংলার মহিলারা একতরফাভাবে তৃণমূলের পাশে আছেন, কিন্তু ২০২৬-এর ফলাফল সেই সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিজেপির দিকে ঝুঁকে যাওয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কেবলমাত্র সরকারি প্রকল্প বা ‘ভাতা’ দিয়ে আর ভোট নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের নিরিখেই এবার ইভিএমে জবাব দিয়েছেন বাংলার মা-বোনেরা।





