“মমতার মনোনীত সমস্ত অফিসার বরখাস্ত”-প্রথম বৈঠকেই শুভেন্দুর ‘মাস্টারস্ট্রোক’!

৪ মে নির্বাচনী ফলাফলের পর বাংলায় নতুন সূর্যোদয়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রথম দিনেই নিজের প্রশাসনিক মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে মনোনীত সমস্ত বোর্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত পুনর্নিযুক্ত আধিকারিকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল নতুন বিজেপি সরকার।

প্রশাসনিক স্তরে ‘অপারেশন ক্লিন’ সোমবার রাজ্য সরকারের জারি করা এক কড়া নির্দেশে জানানো হয়েছে, সরকারি খাতের উদ্যোগ (PSU), অ-বিধিবদ্ধ সংস্থা, বিভিন্ন বোর্ড ও সংগঠনের মনোনীত সদস্য, পরিচালক এবং চেয়ারম্যানদের পদ অবিলম্বে বাতিল করা হলো। এখানেই শেষ নয়, যে সমস্ত আধিকারিক ৬০ বছর বয়সের পর বর্ধিত মেয়াদে কাজ করছিলেন, তাঁদের চাকরিও বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের ঊর্ধ্বতন আমলাদের মতে, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

সীমান্ত সুরক্ষা ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক যুগান্তকারী ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের ঝুলে থাকা ফাইলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া আজ, ১১ মে থেকেই শুরু হবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।” পাশাপাশি, রাজ্যে এতদিন থমকে থাকা ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা-সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প অবিলম্বে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুশির খবর নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু মন্ত্রিসভা। সরকারি স্কুলে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের উচ্চসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে উপকৃত হবেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী। এছাড়াও মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে জাতীয় ও রাজ্য ক্যাডারের অফিসারদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দ্রুত শুরু করা হয়।

জনগণনা ও আইনি সংস্কার পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আইপিসি (IPC) কার্যকর না করে এবং জনগণনা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছিল।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৫ সালের জুন মাসের জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এখন থেকে রাজ্যে কার্যকর করা হলো। একইসঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় আইন রাজ্যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

সব মিলিয়ে, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ শুধু স্লোগান নয়, বাস্তবেই এক নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে চলেছে তাঁর সরকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy