সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পরেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতার জল্পনা যেন আরও ঘনীভূত হলো। দলের জরুরি পরিস্থিতিতে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কার্যত ‘ফ্লপ’ শো-তে পরিণত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
কালীঘাটের বৈঠকে বড়সড় ধাক্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনার পর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে বিধায়করা দলে দলে হাজির হয়ে ঐক্যের বার্তা দেবেন। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৮ জন! অর্থাৎ, ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন।
কীসের ইঙ্গিত এই অনুপস্থিতি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সর্বভারতীয় স্তরের নেতা আক্রান্ত হওয়ার পর এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিধায়কদের এই বিপুল অনুপস্থিতি শাসকদলের অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিরোধীরা। একে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
দলীয় সূত্রের সাফাই যদিও তৃণমূলের অন্দরের দাবি, এর সঙ্গে দলীয় বিভাজনের কোনো সম্পর্ক নেই। দলের তরফে জানানো হয়েছে, অনেক বিধায়কই তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বৈঠকে আসতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, দল যখন সঙ্কটের মুখে, তখন বিধায়কদের এই গড়হাজিরার পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ থাকা অস্বাভাবিক নয়।
নেতৃত্বের ওপর প্রশ্ন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে তৃণমূল কর্মীরা অতীতে বারবার রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আজ দলের অন্দরের এই ছবি কি তবে সেই পুরনো আবেগে ভাটার টান? বিশেষ করে অভিষেক-কাণ্ডের পর যখন দলের ঐক্যবদ্ধ মুখ দেখানো প্রয়োজন ছিল, তখন বিধায়কদের এই অনীহা বড়সড় রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নেতৃত্ব কতটা শক্তি পাবে, তা নিয়েই এখন চলছে জোর চর্চা।





