২০২৬-এর নীলবাড়ির লড়াইয়ের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। আর সেই লড়াইয়ের সবথেকে বড় রণক্ষেত্র হতে চলেছে ভবানীপুর। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের পাড়ায় দাঁড়িয়েই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার শপথ নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রীর নির্বাচনে জেতার যে ‘অস্ত্র’ ছিল, তা তিনি ইতিমধ্যেই ভোঁতা করে দিয়েছেন।
১. মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় ‘শপথ’
ভবানীপুরের এক সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, এবার ভবানীপুরেও হারিয়ে দেখাব। এই মুখ্যমন্ত্রীকে এবার পাল্টাতেই হবে।” তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এখন তৃণমূলের অপশাসনে অতিষ্ঠ এবং ২০২৬ সালে পরিবর্তনের ঢেউ ভবানীপুর থেকেই শুরু হবে।
২. “জয়ের অস্ত্র এখন ভোঁতা”
শুভেন্দুর সবথেকে বড় দাবি ছিল তৃণমূলের ‘ভোট ব্যাংক’ বা জেতার কৌশল নিয়ে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন যে কৌশলে জিতে এসেছেন, সেই অস্ত্র এখন ভোঁতা। দ্বৈত ভোটার এবং ভুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৪০ লক্ষ ভুয়া ভোট কাটলে তৃণমূলের অস্তিত্বই থাকবে না।” শুভেন্দুর ইঙ্গিত স্পষ্ট— এবার লড়াই হবে সমানে সমানে।
৩. ভবানীপুরে ‘মার্জিন’ চ্যালেঞ্জ
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু আজ বলেন, “ভবানীপুরে এবার আমি নিজে দাঁড়িয়েছি বা দল যাকে দেবে, জয় নিশ্চিত। নন্দীগ্রামের চেয়েও বড় ধাক্কা এবার ভবানীপুর পেতে চলেছে।”
৪. ঘাসফুল শিবিরের পালটা
শুভেন্দুর এই হুঙ্কারকে অবশ্য আমল দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, “ভবানীপুরের মানুষ তাঁদের ঘরের মেয়েকেই চায়। বাইরে থেকে আসা কাউকেই তাঁরা মেনে নেবে না।” শুভেন্দুর এই ‘শপথ’ কেবলই প্রচার পাওয়ার সস্তা কৌশল বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।





