বাংলার রাজনীতিতে ভবানীপুর মানেই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি রাজ্য রাজনীতির বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারংবার এই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডটি নিয়ে সরব হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। কিন্তু কেন এই ওয়ার্ডটি এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
কেন শুভেন্দুর নিশানায় ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড? শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের তির মূলত এই ওয়ার্ডের নির্বাচনী সমীকরণ এবং জনবিন্যাসের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এবং এখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি নির্বাচনে লিড পেয়ে থাকে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় বিস্তর কারচুপি রয়েছে এবং বহু ‘বহিরাগত’ ভোটার এখানে প্রভাব ফেলছে। তাঁর নিশানায় মূলত শাসকদলের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করার কৌশল।
ওয়ার্ডটির গুরুত্ব ও রাজনৈতিক ইতিহাস: * লিড ফ্যাক্টর: ভবানীপুর উপনির্বাচন হোক বা সাধারণ নির্বাচন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধানে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। এই ওয়ার্ড থেকে পাওয়া বিপুল লিড অনেক ক্ষেত্রেই বিরোধীদের লড়াই থেকে ছিটকে দেয়।
তৃণমূলের দুর্গ: দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফিরহাদ হাকিমের প্রভাব এবং স্থানীয় সংগঠনের জোর এখানে অত্যন্ত বেশি।
বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ: বিজেপি বা অন্য বিরোধী দলগুলোর জন্য এই ওয়ার্ডে দাঁত ফোটানো সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। আর ঠিক এই কারণেই শুভেন্দু অধিকারী এখানে প্রশাসনিক ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন।
শুভেন্দুর দাবি বনাম বাস্তবতা: বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে চিঠি দেওয়া থেকে শুরু করে জনসভায় এই ওয়ার্ডের ‘জনবিন্যাস পরিবর্তন’ নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক নির্বাচন হলে এই ওয়ার্ডের ফলাফল অন্যরকম হতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী হারের ভয়ে এখন ভোটারদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন।
উপসংহার: ভবানীপুরের অন্দরে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড এখন আর কেবল একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, বরং এটি শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছেই মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুভেন্দুর এই নিরন্তর আক্রমণ আগামী নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের লড়াইকে যে আরও তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।





