পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড়। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা নিয়ে যখন তুঙ্গে জল্পনা, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওপার বাংলা থেকে এল এক অপ্রত্যাশিত পরামর্শ। বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ না করে দিল্লির কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের ওই নেতার মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখনই হার স্বীকার করা উচিত হবে না। বরং বাংলার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মর্যাদা বজায় রাখতে দিল্লির শাসনের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। ওপার বাংলার এই নেতার বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কী বলা হয়েছে ওই বার্তায়? সূত্রের খবর, বাংলাদেশের জামাত নেতা মমতাকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের রায় যাই হোক না কেন, তিনি যেন পিছু হটে না যান। বরং বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে দিল্লিকে চ্যালেঞ্জ জানানোই হবে সঠিক কৌশল। তাঁর দাবি, মমতা যদি দিল্লির কাছে মাথা নত করেন, তবে তা কেবল তৃণমূলের পরাজয় নয়, বরং বাংলার আঞ্চলিক অস্মিতার পরাজয় হিসেবেই গণ্য হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব: বাংলাদেশের কোনো ধর্মীয় সংগঠনের নেতার পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন নেত্রীকে সরাসরি রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়াটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের নেতাদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য দুই বাংলার সম্পর্কের সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই দেখার।
ইতিমধ্যেই এই মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা যখন ব্রিগেডের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে ওপার বাংলার এই ‘লড়াকু হওয়ার পরামর্শ’ ঘাসফুল শিবিরের মনোবলে কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এই পরামর্শে কর্ণপাত করবেন নাকি নিজের সিদ্ধান্তেই অবিচল থাকবেন— এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





