পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয় হতে চলেছে আজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে বিপুল জয়লাভের পর রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতা দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই জয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন।
বিজেপির এই ঐতিহাসিক সাফল্যের দিনে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আজ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার চালিয়েছে, ব্যালট বক্সে মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।” তাঁর মতে, দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের পর বাংলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে শহর কলকাতা এখন উৎসবের মেজাজে। রাজভবনের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবারই শহরে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান। উপস্থিত থাকছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই জয়কে দিল্লির মসনদ রক্ষা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বাংলার মানুষের মন এখন গেরুয়া শিবিরের দিকে। শুক্রবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর কাজের ধরণ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, আপাতত মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন তিনি। ৩ তলায় তাঁর জন্য বিশেষ অফিস সাজানোর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহাকরণই হবে তাঁর প্রধান ঠিকানা। শপথের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তাঁর সরকার।





