তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাত। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অনুগত এবং শ্রীরামপুরের চারবারের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দাগলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় এতদিন অভিষেকের আইনজীবী হিসেবে কাজ করলেও, এবার সেই দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ এই আইনজীবী। শুধু ইস্তফাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই রাখলেন কঠিন শর্ত।
বুধবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভব্য আচরণ দলের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে। ওর অহংকারী মনোভাব মেনে নেওয়া অসম্ভব। সে নিজেকে সবসময় রাজা মনে করে, এমনকি দলের এই কঠিন সময়েও।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “এখন দিদিকেই ঠিক করতে হবে, তিনি অভিষেককে রাখবেন নাকি আমার মতো মানুষদের পাশে রাখবেন। আজকের রাজনীতিতে কার বেশি প্রয়োজন, সেটা দিদিকেই বুঝে নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভের ঘটনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে পিছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়। অথচ, যিনি দলের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁকেই হঠাৎ করে আইনজীবীর পদ থেকে সরিয়ে দেন অভিষেক। এই ঘটনাতেই চরম অপমানিত বোধ করেছেন কল্যাণ।
ক্ষুব্ধ সাংসদের অভিযোগ, “দলের হারের জন্য তো ওরাই দায়ী। আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদ ক’জন আছে? তবুও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমাকেও সাধারণ মানুষের কাছে ‘চোর’ শুনতে হয়েছে। ২০২২ সালেই আমি সতর্ক করেছিলাম যে ওর দ্বারা দল চলবে না।” সই জালিয়াতি কাণ্ডে সিআইডি-র তল্লাশি নিয়েও মুখ খুলেছেন কল্যাণ। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফেরার পরই তিনি দলের পার্টি অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন। অথচ দলের প্রতি এত নিষ্ঠা দেখানো সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে এই আচরণ মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পরিবর্তনের জন্য বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, যেখানে ১৩ জনের সই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। সেই মামলা নিয়েই বর্তমানে শাসকদলের অন্দরে তুঙ্গে বিতর্ক। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতার এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এই দুই ঘনিষ্ঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেন।





