দিল্লির বুকে ড্রাগস ফ্যাক্টরি! পুলিশের হানা দেখে চারতলা থেকে ঝাঁপ বিদেশি মহিলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

রাজধানী দিল্লির বুকে এক ভয়াবহ মাদক কারখানার হদিস পেয়ে স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন। দিল্লির স্বরূপ নগরে একটি বহুতল ভবনে অবৈধভাবে মেথামফেটামিন ও এমডিএমএ ট্যাবলেট তৈরির বিশাল কারখানার পর্দাফাঁস করেছে দিল্লি পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিকস স্কোয়াড (ANS)। এই অভিযানে মাদক তৈরির বিপুল কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি মর্মান্তিক এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ দলকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে চতুর্থ তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন স্টেলা পিউস নামের এক বিদেশি নারী।

দিল্লি পুলিশের উত্তর জেলার ডিসিপি রাজা বানথিয়া জানান, বুরারি থানায় রুজু হওয়া একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এএনএস। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফ্র্যাঙ্ক ড্যাশমন্ড নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরেই তদন্তকারীরা স্বরূপ নগরের ওই নির্দিষ্ট ভবনের নাগাল পান।

অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ প্রথমে ভবনের তৃতীয় তলায় হানা দেয়। সেখান থেকে রোমিও (যিনি স্কাই নামেও পরিচিত) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ গ্রাম এমডিএমএ এবং ১.৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তকারী দল ভবনের চতুর্থ তলায় অভিযান চালায়। সেখানে পৃথক দুটি ফ্ল্যাটে দুজন আফ্রিকান নাগরিকের সন্ধান মেলে। পুলিশ যখন স্টেলার ফ্ল্যাটের দরজায় পৌঁছায়, তখন কোনো উপায় না দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে সরাসরি বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বুরারি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্টিন অ্যারন নামে অন্য এক আফ্রিকান নাগরিকের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চাবিই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে, ওই চাবিটি মৃত স্টেলার ফ্ল্যাটের একটি তালাবদ্ধ ঘরের হতে পারে। সেই ঘর খুলতেই সামনে আসে ভয়াবহ চিত্র। পুরো ঘরটি একটি পূর্ণাঙ্গ মাদক তৈরির গবেষণাগারে পরিণত করা হয়েছিল।

উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ, বিকার, পাইপ, ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র ও বস্তাভর্তি মাদক তৈরির কাঁচামাল। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে মেথামফেটামিন এবং এমডিএমএ ট্যাবলেট উৎপাদন করে আসছিল। জব্দ করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত মাদক। পুলিশ বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছে। কোন কোন এলাকায় এই মাদক সরবরাহ করা হতো এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে স্বরূপ নগর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।