নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে এক গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল— বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে? বুধবার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) রাজীব কুমার। তাঁর সাফ কথা, সবকিছুই করা হচ্ছে নির্দিষ্ট সরকারি প্রোটোকল মেনে।
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তা এবং অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসের সামনে থেকে পুলিশি ব্যারিকেড ও গার্ডরেল সরানোর ছবি ধরা পড়েছিল। যেখানে আগে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত ছিল, সেখানে এখন অবাধে যাতায়াত করছে গাড়ি ও পথচারীরা। এই পরিবর্তন ঘিরেই তৈরি হয়েছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা।
এদিন ডিজি রাজীব কুমার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, “নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রোটোকল মেনেই নেওয়া হয়। কার ক্ষেত্রে কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সেই অনুযায়ীই বর্তমানে ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।” তবে নিরাপত্তা ঠিক কতটা কমানো হয়েছে বা আদৌ কমানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি একে একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মমতা ও অভিষেক দুজনেই বর্তমানে জেড প্লাস (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। নির্বাচনের ফলের পর প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন হতে শুরু করায় ভিআইপি নিরাপত্তার ঘেরাটোপ কিছুটা হালকা করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রোটোকল বজায় থাকলেও, সর্ষের মধ্যে ভূতের মতো কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি যাতে না থাকে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ডিজি-র এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন বিজেপি আগামী ২৫-এ বৈশাখ সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তৃণমূল ইভিএম কারচুপির অভিযোগে সরব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব কুমারের এই বয়ান আসলে বিরোধীদের সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণেই এই নিরাপত্তা হ্রাস। এখন দেখার, ‘প্রোটোকল’-এর এই নয়া দোহাইয়ের পর রাজপথের ভিআইপি কালচার বঙ্গে কতটা কমে।





