নির্বাচনী মরশুমে এবার আইনি জাঁতাকলে রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা জনপ্রিয় কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি। তাঁর মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি বিতর্কে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মনোনয়নে ত্রুটির অভিযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করল আদালত।
কী এই বিতর্ক?
রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী অরিন্দম ঘোষের অভিযোগ, অদিতি মুন্সির জমা দেওয়া হলফনামায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। এই অভিযোগ তুলেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা
কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আগামী ২২ মে-র মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
পাল্টা যুক্তি অদিতি মুন্সির আইনজীবীর
আদালতে সওয়াল চলাকালীন অদিতি মুন্সির আইনজীবী দাবি করেন:
“মনোনয়ন স্ক্রুটিনি পর্বে কমিশন সবকিছু খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি কোনও অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ‘ইলেকশন পিটিশন’-এর মাধ্যমে, সরাসরি হাইকোর্টে নয়।”
একনজরে অদিতি মুন্সির রাজনৈতিক সফর
২০২১: আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান এবং প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া।
পরিচয়: প্রখ্যাত কীর্তন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে রাজ্যজুড়ে খ্যাতি।
বর্তমান: রাজারহাট-গোপালপুরের বিদায়ী বিধায়ক এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে ফের তৃণমূলের বাজি।
পাঁচ বছর আগে রাজনীতিতে ‘নবাগত’ হিসেবে পা রাখলেও, এবার অদিতি মুন্সি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। কিন্তু ভোটের মুখে এই আইনি জটিলতা তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ২২ মে কমিশনের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে সব পক্ষ।





