হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের ‘অবরোধ’, পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের! আকাশ ছুঁল তেলের দাম

বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের কালো মেঘের ঘনঘটা। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তেই তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।

কেন এই অস্থিরতা? সংঘাতের মূলে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা। রবিবার ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজকে আটক করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ না কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ বহাল থাকবে।

পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের: আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই এর যোগ্য জবাব দেবে। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।

একনজরে তেলের বাজার: আমেরিকা-ইরান এই দড়ি টানাটানির জেরে তেলের দামে যে পরিবর্তন এসেছে:

  • মার্কিন ক্রুড অয়েল: ৫.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৭.২০ ডলার

  • ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল: ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫.১৬ ডলার

ভারতের ওপর প্রভাব: ভারত তার প্রয়োজনের ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এবং তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবহণ খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি: আগামী বুধবারই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই এই জাহাজ আটক এবং সমুদ্রপথ বন্ধের ঘটনা নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই ‘অবরোধ’ রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy