ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর যে কয়েকজন বিশ্বনেতা সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক ফোনালাপ গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের অন্দরমহল থেকে ভেসে আসছে এক ভিন্ন সুর—ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সুগভীর বন্ধুত্বের সম্পর্কে কি এবার ফাটল ধরল?
অ্যাক্সিওস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১ জুন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ এবং বৈরুতে সরাসরি হামলার ইসরায়েলি পরিকল্পনার কথা শুনে ট্রাম্প রীতিমতো ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে খবর, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেন, “তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ! আমি না থাকলে আজ তোমাকে জেলে পচতে হতো। আমি তোমাকে বাঁচিয়ে চলেছি, অথচ এখন গোটা বিশ্ব তোমাকে ঘৃণা করছে এবং এই ঘটনার জন্য ইসরায়েলকে কোণঠাসা করা হচ্ছে।” ট্রাম্পের এই চিৎকার থেকে স্পষ্ট, তিনি নেতানিয়াহুর সামরিক জেদ আর সহ্য করতে পারছেন না।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই সম্ভবত ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভের মধ্যে প্রথম বড় কূটনৈতিক সংঘাত। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই অস্থিরতা বাড়ছিল। গত ২০ মে ইরান-চুক্তি সংক্রান্ত একটি ফোনালাপেও দুই নেতার মধ্যে তিক্ততা দেখা দিয়েছিল। নেতানিয়াহু বরাবরই ইরানকে সামরিক পথে দমন করতে চান, অন্যদিকে ট্রাম্প যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতায় বেশি আগ্রহী। ট্রাম্পের স্পষ্ট আশঙ্কা, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বাড়লে তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
ইরান আগেই সতর্ক করেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক কৌশলের সঙ্গে নেতানিয়াহুর রণকৌশল এখন আর মিলছে না। এপ্রিল মাসেও ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে “নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক” অভিযান চালাতে এবং বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, লেবানন ইস্যুটি এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর ক্রমাগত সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বের সম্পর্কে এই তিক্ততা কতটা গভীর প্রভাব ফেলে।





