বিধানসভায় শপথগ্রহণের প্রথম দিনেই অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। চরম রাজনৈতিক শত্রুতা ভুলে একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন তৃণমূলের রঙিন বিধায়ক মদন মিত্র এবং নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। কিন্তু আলিঙ্গনের থেকেও বেশি শোরগোল ফেলেছে অর্জুন সিংয়ের একটি মন্তব্য, যাতে মদন মিত্রের দলবদল নিয়ে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
“মদনদা আমাদের সঙ্গে চলে আসবে!” বুধবার বিধানসভায় শপথগ্রহণ চলাকালীন মুখোমুখি হন দুই হেভিওয়েট নেতা। দেখা হতেই সৌজন্য বিনিময় এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন তাঁরা। হাসতে হাসতে অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে বলে ওঠেন, “মদনদা যেকোনো সময় আমাদের সঙ্গে চলে আসবে। ও লাভলি।” নজরকাড়া বিষয় হলো, অর্জুনের এই মন্তব্যে কোনও প্রতিবাদ তো দূরস্ত, বরং তাঁর কাঁধে হাত রেখে মৃদু হাসতে দেখা যায় কামারহাটির বিধায়ককে। অতীতে এই দু’জনকে একাধিকবার কড়া ভাষায় একে অপরকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল, কিন্তু আজ যেন সব সমীকরণ বদলে গেল।
মমতাহীন বিধানসভা নিয়ে আবেগপ্রবণ মদন শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ হতাশ দেখাল মদন মিত্রকে। ২০১১ সালের পরিবর্তনের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন শপথ নিয়েছিলেন, লক্ষাধিক মানুষ হেঁটে গিয়েছিলেন। সেটা ছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের মুক্তির স্বাদ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য। বাংলার মানুষ যেন নির্বাক হয়ে গিয়েছেন, কোথাও কোনও উচ্ছ্বাস বা আনন্দ নেই।”
এরপরেই তাঁর গলায় ঝরে পড়ে একরাশ মন খারাপ। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়েছি। এমন একটা বিধানসভা যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেই, ভাবতেই পারছি না।” উল্লেখযোগ্য যে, এবারের বিধানসভা ভোটে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে সদনের সদস্য নন।
চর্চায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ মদন মিত্রের এই ‘ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়া’ এবং অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর এই মাখোমাখো সম্পর্ক দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা এবার সত্যিই গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন? যদিও এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কোনও মন্তব্য করেননি মদন মিত্র। তবে বিধানসভার অলিন্দে অর্জুন সিংয়ের হাসিমুখ আর মদন মিত্রের এই মৌনতা কি বড় কোনও ঝড়ের পূর্বাভাস? সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।





