জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) ঘোষিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রতিবাদের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ তীব্র। এই আবহে, এসআইআর (SIR) নিয়ে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দুই গোষ্ঠী স্পষ্টত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মমতাবালার হুঁশিয়ারি: ‘৯৫% মতুয়ার নাম বাদ যাবে’
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় সরব হয়েছে তৃণমূল পন্থী মতুয়ারা, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এর প্রতিবাদে তিনি আগামী ৫ নভেম্বর থেকে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন।
মমতাবালা ঠাকুরের দাবি, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া কার্যকর হলে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি এটিকে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার গভীর চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন।
মমতাবালা আরও অভিযোগ করেন:
সিএএ (CAA) ফর্ম ফিলাপকে ঘিরে নানা অস্পষ্টতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
বহু জায়গায় মোটা টাকার বিনিময়ে এই আবেদনপত্র ভর্তি করা হচ্ছে এবং এটি এখন ‘ইনকামের রাস্তা’য় পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ২০০২ সালে সংশোধিত ভোটার তালিকা, যেখানে সিএএ-তে নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের উল্লেখ নেই। এই বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে দ্বৈত অবস্থানের অভিযোগ করেছেন মমতাবালা ঠাকুর।
শান্তনু ঠাকুরের গোষ্ঠীর পাল্টা পদক্ষেপ
অন্যদিকে, মতুয়া মহাসঙ্ঘের অপর অংশ— কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ (বিজেপি)— সিএএ (CAA) ফর্ম পূরণে সাহায্য করতে রাজ্যজুড়ে শিবিরের আয়োজন করেছে। এই শিবিরগুলিতে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ ভিড় করছেন।
তবে, মতুয়াদের তৃণমূল গোষ্ঠীর অভিযোগ যে এই প্রক্রিয়ায় টাকা নেওয়া হচ্ছে। যদিও, শান্তনু ঠাকুরের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মেম্বারশিপ নেওয়ার সময় কেউ স্বেচ্ছায় টাকা দিলে আমরা বাধা দিচ্ছি না। কোনো চাপ নেই।”
প্রতিবাদে পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মতুয়াদের মধ্যে যখন এই চরম রাজনৈতিক বিভাজন, তখন তৃণমূল কংগ্রেসও এই প্রক্রিয়া এবং এসআইআরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং কলকাতায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে মতুয়াদের প্রধান ঠাকুরবাড়িটি পুরোপুরি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হচ্ছে।