কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে ‘মজা’ করতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন করায় দক্ষিণ কোরিয়ার এক মহিলাকে কড়া শাস্তি দিল আদালত। গত বছর অক্টোবরে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করার সময় ৫০-এর ঘরে বয়সের ওই মহিলা আচমকাই এক পুরুষ সহকর্মীর প্যান্ট টেনে খুলে দেন। শুধু প্যান্ট নয়, তার সঙ্গে ওই পুরুষ কর্মীর অন্তর্বাসও খুলে যায়, তাও আবার অন্য কর্মীদের সামনে।
‘মজা’ নয়, ‘যৌন অসদাচরণ’
মহিলা দাবি করেন, তিনি নিছকই মজা করতে গিয়েছিলেন এবং তাতেই এমনটা ঘটে। কিন্তু ভুক্তভোগী তরুণ কর্মী এই ঘটনাকে হালকাভাবে নেননি। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন এবং মামলা করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের আদালত অবশেষে এই মামলায় রায়দান করেছে। আদালত এই ঘটনাকে ‘যৌন অসদাচরণ’ (sexual misconduct) বলেই ব্যাখ্যা করেছে। মহিলার মজা করার দাবি আদালত গ্রহণ করেনি, বরং এটিকে কর্মক্ষেত্রে অসম্মানজনক ও আপত্তিকর আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
৮ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ২ হাজার ডলার জরিমানা
আদালত ওই মহিলার সাজা ঘোষণা করেছে। তাঁকে ৮ ঘণ্টা এমন প্রকারের আচরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ২ হাজার ডলার (মার্কিন ডলার) আর্থিক দণ্ডও ঘোষণা করা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকার সমান।
এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তো বটেই, এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে আদালতের এই কড়া রায় এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এটি কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমানা এবং সম্মানের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরল। এই রায় কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।