বাংলাদেশের কৃষি মানচিত্রে এখন নতুন এক রঙের নাম ‘ক্যাপসিকাম’। একসময় কেবল দামী সুপারশপ বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় দেখা গেলেও, এখন দেশের সাধারণ মানুষের থালায় এবং কৃষকের জমিতে জায়গা করে নিয়েছে এই পুষ্টিকর সবজি। কৃষি বিভাগের মতে, বাংলাদেশে ক্যাপসিকামের চাহিদা ও চাষাবাদ— দুই-ই এখন তুঙ্গে।
ভোলার চমকপ্রদ সাফল্য:
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশে ক্যাপসিকামের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, দেশের মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশই উৎপাদিত হচ্ছে উপকূলীয় জেলা ভোলায়। ভোলার প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে এখন সবুজ, লাল, হলুদ রঙের ক্যাপসিকামের মেলা।
চাষিদের আগ্রহের কারণ:
শুরুতে চাষের খরচ কিছুটা বেশি হলেও, বাজারে উচ্চমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ক্যাপসিকাম চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে সালাদ, পিৎজ্জা, পাস্তা বা সাসলিকে ক্যাপসিকাম অপরিহার্য হয়ে ওঠায় এর একটি স্থায়ী বাজার তৈরি হয়েছে। কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, ২০১৪-১৫ সালের দিকে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন শুরু হলেও এখন তা দেশের প্রতিটি কোণায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পুষ্টি ও বৈচিত্র্য:
শুধু স্বাদ নয়, ক্যাপসিকামের প্রতিটি রঙের পেছনে রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই সবজি এখন টবে বা ছাদবাগানেও শৌখিন মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ভোলার উপ-পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, ভোলার দুটি উপজেলায় বড় আকারে এর চাষ হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।





