মধ্যপ্রদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। রাজ্যের সড়ক নেটওয়ার্ককে অত্যাধুনিক ও গতিশীল করতে রাজ্য সরকার ৬টি নতুন গ্রিনফিল্ড করিডোর নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোপাল-গোয়ালিয়র চার-লেনের হাইওয়ে, যা রাজ্যের দুটি প্রধান শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব দুইই কমিয়ে আনবে।
বর্তমানে ভোপাল থেকে গোয়ালিয়র পৌঁছাতে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রস্তাবিত এই নতুন গ্রিনফিল্ড করিডোরটি সেই দূরত্ব কমিয়ে ৩৪০-৩৫০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনবে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় আড়াই ঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং মাত্র ৫ থেকে ৫.৫ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এমপিআরডিসি (MPRDC) সূত্রে খবর, করিডোরটি ৭০ থেকে ১০০ মিটার চওড়া হবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে আট লেনে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির ৬০ শতাংশ বিনিয়োগ বেসরকারি সংস্থা থেকে আসবে এবং ২০ শতাংশ করে খরচ বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যেই এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজ্যের অন্যান্য গ্রিনফিল্ড করিডোর প্রকল্পসমূহ:
ভোপাল-গোয়ালিয়র ছাড়াও রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর তৈরি হচ্ছে:
ভোপাল-ইন্দোর গ্রিনফিল্ড করিডোর: ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি দুই শহরের যাতায়াতের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনবে। এর ডিপিআর ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
ভোপাল-মান্দসৌর করিডোর: ২৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে ১১,৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ১৩টি ইন্টারচেঞ্জসহ এই পথটি ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
সাগর-সাতনা হাইওয়ে: ২১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েতে ১০টি ইন্টারচেঞ্জ থাকবে। বর্তমানে ৬-৭ ঘণ্টার যাত্রা কমে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯,৮৫০ কোটি টাকা।
জবলপুর-আশাপুর করিডোর: ২৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি হারদা, তিমারনি ও নর্মদাপুরমকে সংযুক্ত করবে, যার বাজেট প্রায় ১৭,০৫৬ কোটি টাকা।
সাগর-জবলপুর করিডোর: ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি সাড়ে ৪ ঘণ্টার যাত্রাকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রদেশে শিল্প বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার আসবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ কেবল মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে শক্তিশালী করে তুলবে। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা ও পরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ দেশের অন্যতম সেরা সড়ক নেটওয়ার্কের রাজ্যে পরিণত হতে চলেছে।





