‘জ্ঞান ফিরতেই চারদিকে শুধু লাশ’! সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছরে মুখ খুললেন একমাত্র জীবিত ব্যক্তি

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ১২ই জুন, আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী ড্রিমলাইনার বিমানটি উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ড পরেই বি জে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে। আকাশ থেকে নেমে আসা সেই আগুনের গোলার আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে নিভে যায় ২৬০টি প্রাণ। বিমানে থাকা ২৪১ জনের মধ্যে ২৪১ জন এবং ভূমিতে থাকা ১৯ জনের মৃত্যু হয়। তবে এই বিভীষিকার মাঝেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান বিশ্বাস কুমার রমেশ। দুর্ঘটনার এক বছর পার হলেও, তিনি আজও সেই ধ্বংসস্তূপের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাননি।

বেঁচে যাওয়াটাই কি আশীর্বাদ? রমেশের মতে, বেঁচে থাকাটা গল্পের শুরু মাত্র, আসল লড়াইটা শুরু হয়েছে তার পরে। সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি সাক্ষাৎকার এবং শিরোনামে বারবার উঠে এসেছে তাঁর নাম। কিন্তু প্রচারের আলোর বাইরে তিনি প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির সঙ্গে। দুর্ঘটনার দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, “জ্ঞান ফেরার পর চারদিকে শুধু লাশ ছিল। আমি আতঙ্কে কোনোমতে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাই।”

রমেশ গুজরাটি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক। সেই দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর ভাই অজয়কেও হারিয়েছেন। শারীরিক আঘাত অনেকটা সেরে উঠলেও, মানসিক ক্ষত আজও টাটকা। বন্ধুদের মতে, তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী এবং সামাজিক মেলামেশা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে আজও সেই ধ্বংসস্তূপের স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফেরে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে গত এক বছর ধরে রহস্য বাড়ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, উড্ডয়নের পর উভয় ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ অকারণে ‘কাটঅফ’ অবস্থানে চলে গিয়েছিল। ককপিটের শেষ কথোপকথনে পাইলটদের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা শোনা গেছে, যেখানে এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করেন, কেন জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এই প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি মানবিক ভুল—তদন্তকারীরা সেই জট খোলার চেষ্টা করছেন।

দুর্ঘটনার পর সারা বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রমেশ। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে তাঁর হেঁটে বেরিয়ে আসার ছবিটি আজও অনেকের মনে শিহরণ জাগায়। কিন্তু আজ এক বছর পর, তিনি সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এক নিঃসঙ্গ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারের আলো মুছে গেলেও, সেই ১২ই জুনের অন্ধকার আজও তাঁর জীবনের অবিরাম সঙ্গী।