মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের বাণিজ্য পথে। বুধবার সকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে দুটি বিশাল কন্টেনার জাহাজে হামলা চালাল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। যার মধ্যে একটি জাহাজ সরাসরি ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে আসছিল।
কী ঘটেছিল মাঝসমুদ্রে? সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UKMTO এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান অধিকৃত জলসীমার কাছে হঠাৎই আইআরজিসি-র গানবোট থেকে গুলি ও রকেট চালিত গ্রেনেড (RPG) ছোঁড়া হয়।
এপামিনোডস (Epaminondas): লাইবেরিয়ার পতাকাযুক্ত এই জাহাজটি দুবাই থেকে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। হামলার জেরে জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এমএসসি ফ্রান্সেসকা (MSC Francesca): পানামার পতাকাযুক্ত এই জাহাজটিও ইরানের কবজায়।
হামলার আগে কোনো রেডিও সতর্কতা ছাড়াই ইরানি গানবোটগুলো থেকে অতর্কিতে গুলি চালানো শুরু হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে দুটি জাহাজকেই ইরানের উপকূলে (সিরিক বন্দরের কাছে) নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ইরানের সাফাই: ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই যাতায়াত করছিল এবং তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বা জিপিএস ট্র্যাকিং নিয়ে কারসাজি করেছিল। ইরানের নৌবাহিনীর ভাষায়, “সামুদ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
ট্রাম্প-ইরান সংঘাত ও ভারতের উদ্বেগ: আশ্চর্যজনকভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালাল তেহরান। গত সাত সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কড়াকড়ির ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতের জন্য চিন্তার বিষয় হলো, মুন্দ্রাগামী জাহাজে এই হামলার ফলে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
পেন্টাগন বনাম তেহরান: ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি তাদের তেলের খনিতে কোনো হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত আমেরিকান তেলকূপ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছিলেন যে ইরানি নৌবাহিনীর শক্তি তলানিতে এসে ঠেকেছে। আজকের এই ঘটনা ট্রাম্পের সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। জাহাজে থাকা ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা এবং জাহাজ দুটিকে মুক্ত করাই এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।





