দ্বিতীয় দফার আগে রণক্ষেত্রের প্রস্তুতি: এক রাতেই শ্রীঘরে ৮০৯ জন প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে মিটলেও, দ্বিতীয় দফায় কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর এই হাই-ভোল্টেজ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেই কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। সোমবার রাতভর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে রাজ্যজুড়ে মোট ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের ময়দানে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হিংসার রক্তচক্ষু ও কমিশনের পালটা চাল সোমবার দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের গাড়িতে হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলা—তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ময়দান। এছাড়া পূর্বস্থলীর নাদনঘাটেও রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর সামনে আসে। এই বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনাগুলি দেখার পরই আরও সক্রিয় হয় কমিশন। রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১০৯৫ জনকে আটক করা হয়েছিল, যার রেশ ধরে সোমবার রাতে আরও ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জেলায় জেলায় গ্রেফতারির খতিয়ান কমিশন সূত্রে খবর, গ্রেফতারির নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:
পূর্ব বর্ধমান: ৪৭৯ জন গ্রেফতার।
উত্তর ২৪ পরগনা: ৩১৯ জন গ্রেফতার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন গ্রেফতার।
হুগলি ও নদিয়া: যথাক্রমে ৪৯ ও ৩২ জন শ্রীঘরে।
রাজ্যের স্পর্শকাতর বুথগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। বুথের বাইরে জটলা রুখতে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে কড়া নাকা চেকিং চলছে জেলা সীমানাগুলোতে। দ্বিতীয় দফার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই এখন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।





