“ভোটের মুখে বদলে যাচ্ছে বাংলার নিরাপত্তা!”-কেন্দ্রীয় বাহিনীর মুভমেন্টে সরাসরি নজর কমিশনের, চাপে কি দুষ্কৃতীরা?

বেজে গিয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি। হাতে সময় বড়জোর একমাস। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের নিয়ে এক ম্যারাথন বৈঠক সারলেন। রাজ্যে যাতে কোনোভাবেই রক্তক্ষয়ী নির্বাচন না হয়, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

বৈঠকের হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি: এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। এছাড়াও সিআরপিএফ-এর আইজি ও কমিশনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।

কমিশনের ৩টি কড়া সিদ্ধান্ত: ১. সরাসরি ডেপ্লয়মেন্ট: রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার সাথে সাথেই তাদের নির্ধারিত এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা চলবে না। ২. মুভমেন্ট মনিটরিং: সিআরপিএফ বাহিনী কোথায় যাচ্ছে বা কোথায় মোতায়েন থাকছে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। ৩. বিচারকদের নিরাপত্তা: তথ্যগত অসঙ্গতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত বিচারকদের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

কেন এই আগাম সতর্কতা? বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাংলায় ভোট মানেই হিংসা আর বোমাবাজি। বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস— সব পক্ষই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে। এই নেতিবাচক তকমা মুছতে এবার অনেক আগে থেকেই সক্রিয় কমিশন। আগামী ১ মার্চ থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটের সংকল্প: কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ এই পরিকল্পনা কি পারবে হিংসামুক্ত ভোট উপহার দিতে? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই। তবে ১ মার্চ থেকে আধাসেনা নামলে যে পরিস্থিতি বদলে যাবে, তা নিয়ে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy