কাল বৃহস্পতিবার বাংলার প্রথম দফার ভোট। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এল এক চাঞ্চল্যকর খবর। প্রায় ৮০০ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে ভোটের মুখে গ্রেফতার করা হতে পারে— এই আশঙ্কা প্রকাশ করে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় আজ বড় নির্দেশ দিল আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট: তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ ছিল, ভোট শুরুর ঠিক আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা পুলিশ দিয়ে বেছে বেছে তাঁদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হতে পারে। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ: বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন:
অহেতুক ধরপাকড় নয়: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা (Warrant) বা প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
তদন্তে বাধা নয়: আদালত এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুরনো কোনো অপরাধের মামলা বা আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে থাকে, তবে আইন তার নিজের পথেই চলবে।
কমিশনের নজরদারি: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শান্তি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। কোনো পক্ষই যাতে পেশ পেশিশক্তি বা প্রশাসনিক অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: এই নির্দেশকে তৃণমূল শিবির তাদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, এতে কর্মীদের মনোবল বাড়বে। অন্যদিকে বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মতে, অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা বিফলে যাবে, কারণ আদালত আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ করার কথা বলেনি।
এক নজরে: প্রথম দফার ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যত পুলিশের ধরপাকড় অভিযানের ওপর একটি ‘চেক এন্ড ব্যালেন্স’ তৈরি করল।





