পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। এবার রাজ্যে ‘ফর্ম ৬’ ব্যবহার করে প্রায় ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে করা আবেদন শুনতে অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মৌখিক অভিযোগে কাজ হবে না; মামলা করতে হলে আসতে হবে যথাযথ আইনি পথে।
আদালতে ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই ইস্যুটি উত্থাপন করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর দাবি ছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটার নতুন করে তালিকায় যোগ করছে, তা আদালতের আগের নির্দেশের পরিপন্থী।
আইনজীবীর বিস্ফোরক দাবি
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন:
নির্বাচন কমিশন আইন বহির্ভূতভাবে প্রায় ৭ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের গত ১৩ই এপ্রিলের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কেউ যদি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পান, তবেই নাম যোগ হবে। কিন্তু এখানে ঢালাও নাম ঢোকানো হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও ‘ফর্ম ৬’ (নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন) ব্যবহার করে নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতির কড়া অবস্থান
আইনজীবীর এই মৌখিক অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, এভাবে কোনও সংবাদপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৌখিক আবেদনের শুনানি সম্ভব নয়। আদালত জানায়:
“আপনারা যদি কোনও নির্দেশের বিরোধিতা বা চ্যালেঞ্জ করতে চান, তবে যথাযথ আবেদন (Petition) দাখিল করুন। আইন মেনে এলে তবেই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। এভাবে মৌখিক অভিযোগে আমরা হস্তক্ষেপ করব না।”
প্রেক্ষাপট: SIR মামলা ও ভোটার তালিকা সংশোধন
বর্তমানে বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক মামলা চলছে। একদিকে যেমন নাম বাদ দেওয়া নিয়ে অভিযোগ উঠছে, তেমনই আবার নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিরোধীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নাম ঢোকানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই অবস্থানের ফলে আপাতত স্বস্তিতে কমিশন।





