বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ১২ ফেব্রুয়ারি হতে চলা এই নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত ওপার বাংলার রাজনৈতিক আবহ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির প্রায় দেড় বছর পর এই নির্বাচন হতে চলেছে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের একের পর এক মেগা প্রকল্প অনুমোদন ও বিদেশি চুক্তি স্বাক্ষর ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক।
শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের হিড়িক: সাধারণত নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলে অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা ভিন্ন। গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪টি প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি প্রকল্পই একেবারে নতুন। দেড় বছরে সব মিলিয়ে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিদেশি অস্ত্র ও বিমান কেনার চুক্তি: সংবাদমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ের আগে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও চিনের সঙ্গে বড় অঙ্কের সামরিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি সেরে ফেলেছে ঢাকা। এর মধ্যে একাধিক যুদ্ধতরী এবং ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সমালোচকদের মতে, যে ধরনের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চুক্তি কেবল একটি নির্বাচিত সরকারের করার কথা, তা কেন অন্তর্বর্তী সরকার করছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: আগামী নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বিশাল ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে। প্রস্তাবিত নবম পে কমিশনের এক লক্ষ কোটি টাকার খরচ, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে পারে নয়া প্রশাসন। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই ‘তড়িঘড়ি’ সিদ্ধান্তগুলি নবনির্বাচিত সরকারকে একটি কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দেবে।