দেশের গণতন্ত্রের উৎসব দ্বিতীয় দফায় পা দিতেই সামনে এল প্রার্থীদের সম্পর্কে এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা যেমন চমকপ্রদ, তেমনই উদ্বেগের। একদিকে যখন অর্থের ঝনঝনানি দেখছেন ভোটাররা, অন্যদিকে প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
ধনী বনাম দরিদ্র: সম্পদের পাহাড় বনাম শূন্য পকেট
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৩২১ জনই কোটিপতি। তাঁদের বিষয়-সম্পত্তির খতিয়ান সাধারণ মানুষের চোখ কপালে তোলার মতো। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে—
সম্পদের পাহাড়: শীর্ষ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের অনেকেরই সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক শো কোটি টাকা।
নিরক্ষর প্রার্থী: অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দফায় লড়াই করছেন এমন ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন যাঁরা অক্ষরজ্ঞানহীন বা নিরক্ষর।
ঋণের বোঝা: অনেক কোটিপতি প্রার্থীর হলফনামায় কোটি কোটি টাকার ঋণের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
উদ্বেগজনক অপরাধের রেকর্ড: ৯৪ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে এডিআর (ADR)-এর রিপোর্ট। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়ছেন এমন ৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনের (Crime Against Women) মতো গুরুতর অভিযোগ।
রিপোর্টের বিশেষ অংশ: অভিযুক্তদের তালিকায় অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর নামও রয়েছে। ভোটারদের দাবি, যারা আইন প্রণেতা হতে চাইছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি এমন গুরুতর অভিযোগ থাকে, তবে সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের সমীকরণ
এই দফায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রাফটি বেশ বিচিত্র। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর পাশে যেমন ১৬ জন নিরক্ষর রয়েছেন, তেমনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং তরতাজা তরুণ— দুই প্রজন্মের প্রতিনিধিদেরই দেখা যাচ্ছে ব্যালট যুদ্ধে।
সম্পাদকের বিশ্লেষণ: নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো কেন বারবার অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রার্থীদের টিকিট দিচ্ছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভোটারদের উচিত প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দেখে তবেই তাঁদের অমূল্য ভোটটি প্রদান করা।





