ভোটের আগেই কলকাতায় মিঠুন-হিমন্ত জল্পনা! বিমানবন্দরে সৌজন্য নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ?

বাংলার ভোটযুদ্ধের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতা বিমানবন্দরের এক আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘিরে তোলপাড় শুরু হলো রাজনৈতিক মহলে। একদিকে অসমের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্যদিকে বাংলার মানুষের নয়নের মণি তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার বিমানবন্দরে দুই নেতার এই সৌজন্য বিনিময় কি শুধুই ‘কাকতালীয়’, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড় পরিকল্পনা?

বিমানবন্দরে হাই-ভোল্টেজ সাক্ষাৎ

ভোটের প্রচারে রাজ্যে এসেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কর্মসূচি সেরে ফেরার পথেই বিমানবন্দরে দেখা হয়ে যায় মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই ক্রান্তিলগ্নে এই দুই হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের বৈঠক মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়। বিশেষ করে যখন প্রচারের শেষলগ্নে বিজেপি তাদের হেভিওয়েটদের ময়দানে নামিয়েছে।


‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব’: শাহের হুঙ্কার

এদিকে মিঠুন-হিমন্ত সাক্ষাৎ যখন আলোচনার শীর্ষে, তখন ভোট ময়দানে বোমা ফাটিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা কান খুলে শুনে নিক, ৫ই মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ছে। ভোটের দিন বাড়িতেই থাকুন, নাহলে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব!”

শাহ আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলারা রাত ১২টাতেও সুরক্ষিত বোধ করবেন। নারী সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি।


ভোটের বাজারে জল্পনা তুঙ্গে

বিজেপির এই জোড়া আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে শাহের হুঙ্কার আর অন্যদিকে মিঠুন-হিমন্তের মতো তারকা প্রচারকদের সক্রিয়তা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিমানবন্দরে মিঠুন ও হিমন্তের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা খোলসা না করলেও অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

২০২৬-এর মহাযুদ্ধে কে শেষ হাসি হাসবে? মিঠুনের ‘ম্যাজিক’ আর হিমন্তের ‘চাণক্য নীতি’ কি পারবে বিজেপির পাল্লা ভারী করতে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy