বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গ চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রচারের উত্তাপ ছড়ানোর আগেই মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির চালসায় এক বিশেষ ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম টিয়াবন সংলগ্ন প্রায় ৫৮ বছরের পুরনো সেন্ট লুসি চার্চে যান মুখ্যমন্ত্রী।
আন্তরিক অভ্যর্থনা ও ঐক্যের বার্তা
ইস্টারের ঠিক আগে গির্জায় গিয়ে পাদ্রী ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সারেন মমতা। সেই মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সেন্ট লুসি চার্চে আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও স্নেহের সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছে। সকলের মঙ্গল ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।” পাশাপাশি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বার্তা দেন, “নেগেটিভ কিছু আর ভাবলে চলবে না। এটা একতার জায়গা। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে।”
কেন এই গির্জা-সফর? অংকের নাম ‘এক্স-ফ্যাক্টর’
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতার এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়, এর পিছনে রয়েছে গভীর নির্বাচনী সমীকরণ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে:
-
উত্তরবঙ্গের শক্তি: রাজ্যের মোট খ্রিস্টান জনসংখ্যার একটি বড় অংশ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় বাস করেন।
-
নির্ণায়ক ভোট: জলপাইগুড়ির ৭টি এবং আলিপুরদুয়ারের ৫টি—এই মোট ১২টি বিধানসভা আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান থাকে মাত্র ২.৮৩% থেকে ৫.৩৪%।
-
আদিবাসী ফ্যাক্টর: এই অঞ্চলের অধিকাংশ খ্রিস্টানই আদিবাসী এবং চা-বাগানের শ্রমিক। গত কয়েক বছরে এই ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ তৃণমূলের পাশে থেকেছে।
বিজেপিকে রুখতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’?
বিগত নির্বাচনগুলোতে উত্তরবঙ্গে বিজেপি থাবা বসালেও, আদিবাসী ও চা-শ্রমিকদের মন জয় করে সেই জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। চা-বলয়ের এই ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোটই অনেক সময় বদলে দেয় ভাগ্য। তাই ভোটের মুখে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমর্থনকে আরও নিটোল করতে চাইলেন মমতা।
এক নজরে উত্তরবঙ্গের খ্রিস্টান ভোটব্যাঙ্ক
| জেলা | বিধানসভা আসন | খ্রিস্টান ভোটারের গুরুত্ব |
| জলপাইগুড়ি | ৭টি | আদিবাসী ও চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রভাবশালী |
| আলিপুরদুয়ার | ৫টি | জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ণয়ে সক্ষম |
| ভোটের চরিত্র | নির্ণায়ক (Decisive) | প্রথাগতভাবে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে |