রাজনীতির আঙিনায় বিতর্ক আর অসিত মজুমদার যেন সমার্থক। চুঁচুড়া কেন্দ্রে এবার টিকিট না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক। এমনকি হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মাথা মুড়িয়ে ঘোরার’ চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন তিনি দেবাংশু ভট্টাচার্যের প্রধান কাণ্ডারি। তবে প্রচারের ময়দানে নেমে ফের এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিলেন তিনি।
পোলিং এজেন্টদের ‘আঙুল’ নিদান!
শুক্রবার দেবাংশুর সমর্থনে এক প্রচার সভা থেকে কর্মীদের বিশেষ টাস্ক দিলেন অসিত মজুমদার। পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে তাঁর সাফ নির্দেশ:
“শুধু খেয়াল রাখবেন আঙুলটা নিচে আসছে না উপরে উঠছে। আঙুল দেখে বিকেলেই বলে দেবেন দাদা, এই বুথে এত ভোটে জিতছি।”
ভোটাররা ইভিএম-এর কোন বোতাম টিপছেন, তা আঙুলের চলন দেখে বুঝে নেওয়ার এই নিদান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে হাসাহাসি ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিধায়কের দাবি, তাঁর এলাকার ৩৬১টি বুথেই জোড়া ফুল ‘পতপত’ করে উড়বে এবং দেবাংশুর জয় নিশ্চিত।
রচনার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’?
কয়েকদিন আগেও যিনি বলেছিলেন, “রচনা সাথে ঘুরলে দেবাংশু হারবে”, সেই অসিত মজুমদারের সুর এখন অনেকটাই নরম। তিনি জানিয়েছেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের অধ্যায় এখন অতীত। দল নির্দেশ দিলে তিনি রচনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারে নামতেও পিছপা হবেন না। উল্টে তিনি চান, রচনাও যেন চুঁচুড়ায় এসে দেবাংশুর হয়ে ভোট চান।
মান-অভিমানের পালা শেষ
টিকিট না পেয়ে গত ২৯ মার্চ সাংবাদিক বৈঠকে রচনার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন অসিত। দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কান ভারী করার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের অন্দরে মানভঞ্জনের পর এখন তিনি পুরোদস্তুর ‘টিম প্লেয়ার’।
বিতর্কিত মন্তব্য আর রচনার সঙ্গে এই নতুন রসায়ন— চুঁচুড়ার ভোটযুদ্ধে দেবাংশুর পালে কতটা হাওয়া কাড়ে, এখন সেটাই দেখার।





