বুধবার রাতের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদা। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা জেলা। এবার বিক্ষোভকারীদের নিশানায় সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (কলকাতা-শিলিগুড়ি) অবরোধ করে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী এই লাইফলাইন।
মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের মঙ্গলবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। অবরোধের জেরে কয়েক কিলোমিটার লম্বা যানজট তৈরি হয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে:
ইংরেজবাজার: যদুপুর-১ গ্রামপঞ্চায়েতের হাইস্কুল মোড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ।
মানিকচক: রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে শামিল কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা।
বৈষ্ণবনগর: এখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা রয়েছে, তার আগেই গোটা এলাকা থমথমে।
কেন এই ‘ভয়ঙ্কর’ ক্ষোভ?
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তো বটেই, এমনকি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকেও কয়েক হাজার বৈধ ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশন পরিকল্পনা করে বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। মানিকচক স্ট্যান্ডে আন্দোলনরত এক মহিলার কথায়, “আমরা বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও কেন আমাদের নাম বাদ গেল? এর জবাব চাই।”
বিচারক ঘেরাওয়ের পর কড়া প্রহরায় কেন্দ্র
বুধবার কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে (যাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলা ছিলেন) প্রায় ১৫ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল দেশ। গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করার পর আজ সকাল থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল ফোর্স।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা: যদিও সুজাপুর এবং মোথাবাড়ি এলাকায় মধ্যরাত নাগাদ অবরোধ উঠেছিল, কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে কালিয়াচক, মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর চত্বরে।
নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে এই ব্যাপক অসন্তোষ এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মালদার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সুপ্রিম কোর্টের নজরে। জেলা জুড়ে মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।





