পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রণক্ষেত্র এখন আদালত ও রাজনীতির ময়দান। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে অস্বস্তিতে নবান্ন। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার সুকৌশলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ইআরও (ERO) পদে অযোগ্য অফিসারদের বসিয়েছে।
শুভেন্দুর তোপ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশন ২৯৪ জন গ্রেড-এ পর্যায়ের আইএএস এবং ডব্লিউবিসিএস অফিসার চেয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার দিয়েছে মাত্র ২২৫ জনকে, তাও তাঁরা বি এবং সি ক্যাটাগরির অফিসার। শুভেন্দুর প্রশ্ন, “এত তাড়া কিসের? কেন নিয়ম ভেঙে নিম্ন স্তরের অফিসারদের নিয়োগ করা হলো?” এছাড়াও তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রতিবেশী রাজ্য ১০০০ ডেটা অপারেটর দিলেও মমতা সরকার তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও ডিজিপি-কে শোকজ: এদিকে সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় রাজ্যে হিংসার অভিযোগে ডিজিপি-কে (DGP) শোকজ নোটিশ জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। একইসঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, স্ক্রুটিনির জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত।
আদালতের কড়া নির্দেশ: শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ৮,৫০৫ জন অফিসারের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই অফিসারদের বায়োডাটা খতিয়ে দেখে ইসিআই (ECI) নিজেই মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করবে। প্রশাসনের অতিসক্রিয়তা বা গাফিলতি রুখতে আদালতের এই হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।