সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। জনমতের এই বিশাল রায় আসার পর থেকেই গোটা দেশের নজর এখন একটিই প্রশ্নের দিকে— কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? দীর্ঘ কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে কার হাত ধরে নতুন ভোরের পথে হাঁটবে বাংলা? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং সরকার গঠনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে আজই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিজেপি সূত্রের খবর, আজকের দিনটি বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জয়ী বিধায়কদের জরুরি ভিত্তিতে কলকাতায় পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি কলকাতায় এসে পৌঁছবেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতার নাম, যিনিই হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার এক বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করছে বিজেপি হাইকম্যান্ড। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটি বা দড়ি টানাটানির পথে হাঁটবে না গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য নামগুলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরে রেখেছেন। আজ পর্যবেক্ষকরা বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের কাছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। ঐকমত্যের ভিত্তিতেই অর্থাৎ সবার সম্মতিতে একজনের নাম ঘোষণা করা হবে, যাতে দলের অন্দরে কোনো ক্ষোভ না থাকে। এই নির্বাচিত নেতাই রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল অর্থাৎ ৭ মে। রাজ্যপাল যদি মনে করেন, তবে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ার-টেকার’ বা তদারকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলতে পারেন। তবে বিজেপির জন্য সবথেকে বড় চমক অপেক্ষা করছে শপথগ্রহণের দিনে। আগামী ৯ মে, অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নেই শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। বাঙালির আবেগকে সম্মান জানিয়েই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পাবেন এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, তা নিয়েও আজ রাতেই সিলমোহর দিতে পারেন শাহ।





