ভোট মিটতেই বীরভূমে লাশের রাজনীতি! বিজেপি-তৃণমূল খণ্ডযুদ্ধে ঝরল রক্ত, বোমাবাজিতে কাঁপল গ্রাম

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের নানুর। মঙ্গলবার দুপুরে নানুরের সন্তোষপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। নিহতের নাম আবির শেখ। এই ঘটনায় দুই পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সন্তোষপুর গ্রামে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, বিজেপির একটি বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করেই ঝামেলার সূত্রপাত। নিমেষের মধ্যে তা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। লাঠি, দা, কাটারি এমনকি কোদাল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই পক্ষ। চলে মুহুর্মুহু বোমাবাজিও।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজয় মিছিল থেকে ফেরার পথে আবির শেখ ও আলি হোসেন নামে দুই কর্মীকে রাস্তা আটকে কোদাল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবিরের। গুরুতর জখম অবস্থায় আলি হোসেনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুদেব মাঝি নামে এক বিজেপি কর্মীও এই সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী আলি হোসেনের মা মুশকুরা বিবি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বিজেপির লোকেরাই আমার ছেলে আর আবিরকে কুপিয়েছে। আগে কোনও ঝামেলা ছিল না, আজ হঠাৎ গ্রামে অশান্তি শুরু হল।”

পাল্টা অভিযোগ তুলে জখম বিজেপি কর্মী সুদেব মাঝি বলেন, “আমরা শান্তিতে বিজয় মিছিল করে ফিরছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন কাটারি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং বোমা মারে। আমরা শুধু নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।”

উত্তপ্ত বীরভূম, পুলিশের টহল: সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসছে। তৃণমূলের দাবি, জেলার বিভিন্ন গ্রামে তাদের কর্মীদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, দখল করে নেওয়া হচ্ছে দলীয় কার্যালয়। নানুরের ঘটনার পর পুরো গ্রামে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গ্রামে টহল দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, জয়ের পরেই বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে শান্তি বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। এমনকি বীরভূমের বিজেপি জেলা নেতৃত্বও কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছিলেন। তা সত্ত্বেও নানুরের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy