বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি রুখতে এবার রীতিমতো কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি সক্রিয়তায় কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে কয়েকশো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশি অ্যাকশনের রিপোর্ট কার্ড: রাজ্য পুলিশের ডিজি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট পরবর্তী বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ২০০-র বেশি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তদন্তে নেমে পুলিশ মোট ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। ডিজি সাফ জানিয়েছেন, অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে।
ন্যাজাট ও এন্টালি কাণ্ডে নয়া মোড়: এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের সংঘর্ষ এবং কলকাতার এন্টালিতে যুবক খুনের ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাপানউতোর চললেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে অন্য তথ্য। ডিজি-র দাবি, ন্যাজাটের সংঘর্ষ এবং এন্টালির যুবক খুনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা স্থানীয় কোনও বিবাদের জেরেই এই ঘটনাগুলি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
শান্তি ফেরাতে সক্রিয় প্রশাসন: রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ডিজি আশ্বাস দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনি নিশ্চিত করতে পুলিশ চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে। ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে জনজীবনে স্বাভাবিক ছন্দ ফেরানোই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তবে ন্যাজাট ও এন্টালির মতো ঘটনায় পুলিশের ‘অরাজনৈতিক’ তকমা দেওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে কি না, এখন সেটাই দেখার।





