২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ভোট গণনার কাজে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করার যে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট দিয়েছিল, তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। মামলার গুরুত্ব বিচার করে আগামীকাল, শনিবারই এই পিটিশনের জরুরি শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আগে জানানো হয়েছিল যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত গণনার স্বার্থে রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরও গণনার টেবিলে নিয়োগ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলেও আদালত কমিশনের পক্ষেই রায় দেয়। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ গণনার স্বার্থে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ব্যবহার করার মধ্যে কোনো আইনি বাধা নেই।
তবে হাইকোর্টের এই রায়কে মেনে নিতে পারেনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, গণনা প্রক্রিয়ায় আচমকা কেন্দ্রীয় কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আজ তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন জানায় জোড়াফুল শিবিরের আইনজীবীরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আইনি লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়, তবে নির্বাচন কমিশনকে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে, যা গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আর যদি হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে, তবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের নজরদারিতেই হবে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ।
শনিবারের এই বিশেষ শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ভোট গণনার চূড়ান্ত রূপরেখা। বর্তমানে দিল্লির অন্দরমহলে এই মামলাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা তুঙ্গে।





