পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকুরি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, সবক্ষেত্রেই যোগ্য প্রার্থীদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভুয়ো’ শংসাপত্র। যোগ্য না হয়েও জাল নথি পেশ করে তফসিলি জাতি বা উপজাতির সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার এই দুর্নীতি সমূলে উপড়ে ফেলতেই কোমর বেঁধে নামছে রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভুয়ো শংসাপত্র নির্মূল করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, যারা জালিয়াতি করে প্রকৃত আদিবাসী বা অনগ্রসর মানুষের হকের ভাগ কেড়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যোগ্যরা যাতে বঞ্চিত না হন এবং অযোগ্যদের অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকানো যায়, সেটিই তাঁর মন্ত্রকের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর শ্রেণি ও উপজাতি কল্যাণে বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে পিছিয়ে পড়া মানুষের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই জাল সার্টিফিকেট তৈরি করেছে। এর ফলে প্রকৃত আদিবাসী যুবক-যুবতীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “আমরা চাই না একজনও প্রকৃত তফসিলি মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বাইরে থাকুক। আর এই জন্য আমাদের প্রথম কাজ হলো সিস্টেম থেকে জঞ্জাল সাফ করা।” তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিটি শংসাপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর এবং স্বচ্ছ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ জাল নথি দিয়ে সুবিধা নিতে না পারে, তার জন্য ডিজিটাল পরিকাঠামোকেও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে রাজ্যে সংরক্ষণ নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ‘ভুয়ো’ চক্র ভাঙতে কতটা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয় নবনির্বাচিত এই সরকার।





