ভিকটিম কার্ড নাকি গভীর ষড়যন্ত্র? মমতার ড্রোন-আতঙ্ক নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা, উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এবার খোদ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত সপ্তাহে মালদহের মালতীপুরে সভা সেরে ফেরার সময় তাঁর হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় একটি ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের সভা থেকে মমতা সরাসরি অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই ছক কষা হয়েছিল।

কী ঘটেছিল মালদহে? মুখ্যমন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, সভা শেষে তিনি যখন হেলিকপ্টারে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একটি ড্রোন তাঁর কপ্টারের একদম সামনে চলে আসে। মমতার কথায়:

“আমার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ধাক্কা খেলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কাড়ার জন্য?”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না। যতক্ষণ বেঁচে থাকবেন, বিরুদ্ধ শিবিরের বিরুদ্ধে এভাবেই সরব হবেন।

তদন্তে বিহার যোগ ও গ্রেফতারি: এই ড্রোন কাণ্ডে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যারা বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কার নির্দেশে বা কী উদ্দেশ্যে নো-ফ্লাই জোনে ড্রোন ওড়ানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, এর পেছনে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

অমিত শাহের ‘ভিকটিম কার্ড’ কটাক্ষ: মমতার এই অভিযোগের কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে কটাক্ষ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করেন। শাহের দাবি ছিল, বাংলার মানুষ এখন এই রাজনীতি বুঝে গিয়েছে। আজ বর্ধমানের সভা থেকে কার্যত সেই কটাক্ষেরই কড়া জবাব দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেওয়াই হোক বা নিজের নিরাপত্তা— মমতার এই ‘ড্রোন থিওরি’ ভোটের আবহে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। বিরোধীরা একে নির্বাচনী চমক বললেও, প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy