“ভাসুরের ছেলের প্রেমে মত্ত কাকিমা”-হাতেনাতে ধরে বিয়ে দিলেন খোদ কাকা!

১৪ ফেব্রুয়ারি যখন গোটা বিশ্ব ভালোবাসার রঙে রঙিন, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশের গোঘাট থানা এলাকার টিকরি গ্রামে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও ‘অদ্ভুত’ প্রেমের পরিণতি। দীর্ঘ কয়েক বছরের পরকীয়া প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেন কাকিমা, আর সেই প্রেমের পূর্ণতা দিতে পাশে দাঁড়ালেন খোদ স্বামী। নিজের স্ত্রীকে নিজেরই ভাইপোর হাতে তুলে দিয়ে থানার ভিতরেই বিয়ের ব্যবস্থা করলেন তিনি। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এমন এক আজব ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পূজা নামে এক যুবতী। প্রায় আট বছর আগে টিকরি গ্রামের বাসিন্দা পঙ্কজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দু’টি সন্তানও রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সাজানো সংসার থাকলেও তলে তলে পূজার মন মজেছিল তাঁর ভাসুরের ছেলের ওপর। কাকিমা ও ভাইপোর এই নিষিদ্ধ প্রেম দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চললেও ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি পরিবারের সদস্যরা। গ্রামের বিভিন্ন নির্জন জায়গায় চলত তাঁদের অভিসার। সম্প্রতি গ্রামবাসীদের মারফত বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির কানে পৌঁছালেও প্রথম দিকে কেউ বিশ্বাস করেননি।

তবে গতকাল অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি যুগলকে নির্জন জায়গায় আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্বয়ং পঙ্কজ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পূজা সবার সামনেই স্বীকার করে নেন যে তিনি তাঁর ভাইপোকেই ভালোবাসেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকতে চান। স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে ভেঙে পড়লেও পঙ্কজ এক চরম সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজেই পূজা ও তাঁর ভাইপোকে নিয়ে স্থানীয় থানায় হাজির হন।

থানার ভিতরেই পুলিশ ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় বিয়ের তোড়জোড়। যুগল একে অপরকে মালা পরান এবং রীতিমতো সিঁদুরদানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পঙ্কজ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই বিয়ের সাক্ষী থাকেন। তবে থানার মতো একটি সরকারি জায়গায় এই ধরণের ধর্মীয় আচার এবং বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, পুলিশের উপস্থিতিতে থানায় এভাবে বিয়ে দেওয়া আইনত কতটা সঙ্গত তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy