ভারতের শক্তিশালী অস্ত্রের সম্ভারে নয়া সংযোজন! সফলভাবে পরীক্ষা হলো দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল LRLACM

ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুক্ত হলো আরও এক নতুন পালক। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ওড়িশা উপকূলের ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ভূমি আক্রমণকারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (LRLACM)-এর সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। এই সাফল্য ভারতের সামরিক শক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

সফল পরীক্ষার মূল বিষয়সমূহ: সোমবার পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি তার মিশনের প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রা নিখুঁতভাবে পূরণ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই মিসাইলের নেভিগেশন, দিকনির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। শত্রু অঞ্চলের গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে ধূলিসাৎ করতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

LRLACM-এর বিশেষত্ব:

  • সাবসনিক প্রযুক্তি: এটি একটি সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ভূমির লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

  • টার্বোফ্যান প্রোপালশন: একটানা দীর্ঘ উড্ডয়নের জন্য এতে রয়েছে অত্যাধুনিক টার্বোফ্যান প্রোপালশন ইউনিট।

  • ভূখণ্ড অনুসরণকারী ক্ষমতা: এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় এবং ভূখণ্ডের রূপরেখা অনুসরণ করে উড়তে পারে, ফলে শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম।

  • নির্ভুল নিশান: এতে রয়েছে উন্নত ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম এবং টার্মিনাল সিকার, যা লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে সিদ্ধহস্ত।

আত্মনির্ভর ভারতের জয়গান: এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থার সহযোগিতায় দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনে জোর দেওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যেমন কমবে, তেমনই ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দ্রুত আপগ্রেড করার সুযোগও বাড়বে। ডিআরডিও-র এই সাফল্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সংস্থার চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নিঃসন্দেহে, দূরপাল্লার এই শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল ভারতীয় সেনার হাতে আসায় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রণকৌশলগত দিক থেকে ভারত আরও অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy