আগামীকাল, শনিবার সকালে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও তাঁর সস্ত্রীক প্রথম ভারত সফরের সূচনা করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে। কূটনৈতিক মহলে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ভোর ৭টা ৫ মিনিটে তিনি কলকাতায় অবতরণ করবেন এবং তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু করবেন কলকাতার বুকে।
জানা গিয়েছে, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি চলে যাবেন মাদার হাউসে। সেখানে সেন্ট টেরিজা টুম্বে প্রার্থনা করবেন তিনি। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা চিলড্রেনস হোমে এবং তারপরেই ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই ঝটিকা সফরের পরেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ইতিমধ্যেই মার্কিন দূতাবাস থেকে তাঁর এই সফরসূচি রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবার ভারত সফরে এসে কেন তিনি কলকাতাকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং এ রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে মার্কিন প্রশাসন কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এই সফর তার ইঙ্গিতবাহী। কলকাতার পাশাপাশি তাঁর ভারত সফরের পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে রয়েছে আগ্রা, জয়পুর এবং নয়া দিল্লি।
দিল্লিতে পৌঁছে মার্কিন বিদেশ সচিব অত্যন্ত ব্যস্ত সূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে। ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তাঁর আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। ২৬ মে তিনি কোয়াড (ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া)-ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে এই সফর সম্পন্ন হতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিদেশ সচিবের মতো পদাধিকারীর পশ্চিমবঙ্গ সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং এর পেছনে গভীর কূটনৈতিক রণকৌশল রয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকা নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কলকাতার মতো একটি মেট্রো শহরে তাঁর আগমন সেই কৌশলগত বন্ধুত্বেরই এক বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এখন নজর থাকবে, মাদার হাউস ও ভিক্টোরিয়া সফরের পাশাপাশি তিনি রাজ্যের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন কি না।





