এক মাস রোজা রাখার পর অবশেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ইদ-উল-ফিতর। ২০ না ২১ মার্চ— ভারতে কবে ইদ পালিত হবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারিখ ঘোষণা করল কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদ।
নাখোদা মসজিদের বড় ঘোষণা
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নাখোদা মসজিদের ‘মারকাজি রুহিয়াত-এ-হিলাল কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন ১৪৪৭ হিজরি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। ফলে আগামী ২১ মার্চ, শনিবার ভারতজুড়ে পালিত হবে পবিত্র ইদ-উল-ফিতর।
রমজান ও ইদের মাহাত্ম্য
ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি সনের নবম মাস হলো রমজান। বিশ্বাস করা হয়, আজ থেকে প্রায় ১,৪০০ বছর আগে এই পবিত্র মাসেই হজরত মুহাম্মদের কাছে কোরানের প্রথম শ্লোক অবতীর্ণ হয়েছিল।
-
ত্যাগের মাস: দীর্ঘ এক মাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস বা রোজা পালন করেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা।
-
উপবাস ভঙ্গ: ‘ইদ-উল-ফিতর’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো উপবাস ভঙ্গের উৎসব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্বব্যাপী আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।
২০২৬-র ইদ ক্যালেন্ডার একনজরে:
| ইভেন্ট | তারিখ |
| রমজান শুরু | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| চাঁদ রাত | ২০ মার্চ, ২০২৬ |
| ইদ-উল-ফিতর (ভারত) | ২১ মার্চ, ২০২৬ (শনিবার) |
কীভাবে পালিত হয় এই উৎসব?
ইদ মানেই আনন্দ আর সম্প্রীতি। দিনটি ‘মিঠি ইদ’ নামেও পরিচিত। এদিন সকালে নতুন পোশাক পরে ইদগাহ বা মসজিদে সমবেত হয়ে বিশেষ নামাজ পাঠ করেন পুরুষরা। নামাজের পর একে অপরকে ‘ইদ মোবারক’ জানিয়ে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় শিমুই, লাচ্ছা ও নানাবিধ সুস্বাদু পদ। ছোটদের দেওয়া হয় ‘ইদি’ বা সালামি। সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারিদিক।
বিশেষ তথ্য: চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মাস নির্ধারিত হয়। এ বছর সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবরের ওপর ভিত্তি করেই ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।