বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। শনিবার ওমানের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালাল ইরানের নৌবাহিনী। ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল বোঝাই এই জাহাজটির ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নয়াদিল্লি। জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে।
মাঝসমুদ্রে ঠিক কী ঘটেছিল?
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী:
অতর্কিত গুলিবর্ষণ: ইরাক থেকে তেল নিয়ে আসার সময় হরমুজ প্রণালীর ওমান সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
বিশাল ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে: ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল বহনকারী এই সুপারট্যাঙ্কারটি লক্ষ্য করে গুলি চললেও স্বস্তির খবর এই যে, বড় কোনো হতাহত বা ছিদ্র হওয়ার খবর মেলেনি।
বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতা: ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাবে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন বাহিনী ও ইউনিটের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকার ফলেই হয়তো ভুলবশত ভারতের মতো বন্ধু দেশের জাহাজে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
দিল্লির কড়া অবস্থান ও রাষ্ট্রদূতের হাজিরা
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ভারত সরকার বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি: ১. রাষ্ট্রদূতকে তলব: বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতালিকে তলব করা হয়। ২. হাজিরা: ভারতের কড়া বার্তার পরপরই আজ সন্ধ্যায় বিদেশ মন্ত্রকের দপ্তরে এসে পৌঁছান ইরানি রাষ্ট্রদূত। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিক ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
কেন হঠাৎ রণংদেহি ইরান?
ইরান সরকার শনিবার সকালেই ঘোষণা করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে। তেহরানের দাবি:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পথ বন্ধ করা হয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করছে না। যারা যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, তারা সবাই ফিরে এসেছে।
বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ভারতগামী তেলের ট্যাঙ্কারে এই হামলা এবং পথটি বন্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





