“ভাই যত পরীক্ষাই দিত, ‘A’ গ্রেডই পেত”- নিভে গেল দীপক পাঠকের স্বপ্ন, শোকে পরিবার

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা এক হৃদয়বিদারক মৃত্যুমিছিলের দৃশ্যপট তৈরি করেছে। দেশের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান বিপর্যয়। টেক অফের মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ড্রিমলাইনার, যা একটি জনবহুল এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ ও হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। এই ভয়াবহতার মাঝে বিমানের ক্রু মেম্বার দীপক পাঠকের পরিবার শুরুতে এক অনিশ্চিত যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, অবশেষে নিশ্চিত মৃত্যুর খবরে তারা শোকে বিহ্বল।

টিভি সংবাদ থেকে দুঃসংবাদ: ভাই হারানোর আহাজারি
দীপকের বড় বোন প্রথমে তার ভাইয়ের কোনো নিশ্চিত খবর না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “এখনও ভাইয়ের কোনো খবর পাইনি। টিভির খবরের উপরেই ভিত্তি করে আছি। আমাদের কিছু নিশ্চিত করে বললেই তখন কিছু বলব। ও আমাদের ভাই। দেখতে পাচ্ছি না কোথাও। তাই কষ্ট পাচ্ছি খুব।”

তিনি আরও বলেন, “যত জায়গায় আমাদের সোর্স আছে, কথা বলছি। সকলেই সাহায্য করার চেষ্টা করছে।”

সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, খবরের মাধ্যমেই তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। সকালে ভাই মাকে ফোন করে জানিয়েছিল যে সে আহমেদাবাদের ওই ফ্লাইটে করেই যাচ্ছে। পরে খবর দেখার পর মা বলেন, “এই বিমানেই তো দীপক ছিল।” এরপরই তারা দীপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন।

মেধাবী দীপকের অকাল প্রয়াণ: পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদ
তবে অবশেষে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে যায় পরিবারের সকলে। তাদের একমাত্র মেধাবী সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে পুরো পরিবার। আবেগাপ্লুত হয়ে দীপকের বোন বলেন, “আমাদের একমাত্র ভাই। আমাদের ভাই পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। রাত জেগে পড়াশোনা করত। এখনও যত পরীক্ষাই দিত, ‘এ’ গ্রেডই পেত সে। ওর ব্রেইনটাই আলাদা ছিল।”

এই দুর্ঘটনা দীপক পাঠকের মতো অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে, যাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এক লহমায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো। দীপকের পরিবারের এই করুণ আর্তি আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার সামগ্রিক ট্র্যাজেডিরই এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি, যা গোটা দেশকে শোকস্তব্ধ করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy