রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফের একবার কলকাতা হাইকোর্ট। বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর এই আকস্মিক হাইকোর্ট পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা এই মামলা তৃণমূল নেত্রীর পরবর্তী বড় আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহনকারী গাড়িটি কলকাতা হাইকোর্টের ‘সি’ গেট দিয়ে প্রবেশ করে। এই আকস্মিক পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরে তৈরি হয় কৌতুহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই সময় ছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং দলের বর্ষীয়ান নেত্রী দোলা সেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে নিজের আপত্তি ও সংশয় জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।
ভবানীপুর কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রেজাল্ট নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেই সংশয় ও অভিযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এক বিরল ঘটনা। এর ফলে ভবানীপুরের সেই বিতর্কিত নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা নিয়ে এক নতুন আইনি লড়াইয়ের সূচনা হলো।
আদালত চত্বরে তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায়। তবে এ দিন তিনি কোনো সাংবাদিকের মুখোমুখি হননি বা সংবাদমাধ্যমকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। মামলার মূল বিষয়বস্তু বা কী ধরনের অস্বঙ্গতি তিনি আদালতে তুলে ধরেছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এই মামলার মাধ্যমে ভবানীপুর কেন্দ্রে যে কারচুপির অভিযোগ অতীতে তোলা হয়েছিল, তার সুরাহা চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কি ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারবে? বিশেষ করে যখন রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষের দাপট ও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে নানা বিতর্ক দানা বাঁধছে, তখন তৃণমূল সুপ্রিমোর এই আইনি লড়াইকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে আপামর রাজনৈতিক মহল। এই মামলা কতদূর গড়াবে এবং তার ফলে নির্বাচনী ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে।





