ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক শক্তিকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যে এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের দিকে এগিয়ে চলেছে ভারত। ‘নেক্সট জেনারেশন করভেট’ (NGC) নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই প্রকল্পের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত আসার অপেক্ষায় রয়েছে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS)। সূত্র বলছে, খুব দ্রুতই এর অনুমোদন পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট আটটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌবহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে পাঁচটি যুদ্ধজাহাজের বরাত পেতে চলেছে। বাকি তিনটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেতে পারে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL)।
এই যুদ্ধজাহাজগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘বন্টিত প্রাণঘাতী ক্ষমতা’। অর্থাৎ, আকারে ছোট হলেও এগুলি শত্রুপক্ষের ওপর মরণকামড় বসাতে সক্ষম। ৩,৫০০ টন ওজনের প্রতিটি করভেট ৩২ নট গতিতে ছুটতে পারবে এবং কোনো বাহ্যিক রসদ ছাড়াই টানা ৩০ দিন সমুদ্রে অভিযান চালাতে পারবে। এই জাহাজগুলির অস্ত্র ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে থাকবে আটটি বর্ধিত পাল্লার ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা বহুদূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ রুখতে থাকবে ১৬ থেকে ৩২টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ শর্ট রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (VLS-SR SAM)। এছাড়া একে-৬৩০ ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম মিসাইল এবং শত্রু যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধেও এই করভেটগুলি হবে ত্রাস। এগুলিতে বসানো থাকবে উন্নত হাল-মাউন্টেড সোনার, অ্যাক্টিভ টোড অ্যারে সোনার এবং ট্রিপল-টিউব টর্পেডো লঞ্চার। এছাড়া এএলএইচ ধ্রুব বা সি কিং-এর মতো হেলিকপ্টার পরিচালনার সুবিধাও থাকবে। ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মোকাবিলায় এতে থাকবে ELM-2248 MF-STAR AESA রাডার এবং শক্তিশালী ‘শক্তি’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিসিএস-এর অনুমোদন মিললে সেই বছরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ২০২৭ সালে নকশা চূড়ান্ত ও স্টিল কাটিং শুরু হওয়ার পর, প্রথম জাহাজটি ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে জলে ভাসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে এটি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে বাকি জাহাজগুলি পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যাবে। এই প্রকল্পটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং আধিপত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।





