“বোমা-গুলি কেন চলবে?” পুলিশকে কড়া ধমক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, শান্তিতে ভোট করাতে নজিরবিহীন দাওয়াই

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রণংদেহী মেজাজে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার রাজ্য সফর ও ম্যারাথন ভার্চুয়াল বৈঠকের পর কমিশন স্পষ্ট করে দিল—ভোটের ময়দানে কোনো ‘ভিআইপি রাউডি’ বা প্রভাবশালী দুষ্কৃতীর দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।

থানায় থানায় ‘১০ জনের টার্গেট’

ভোটের আগে অশান্তি পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিদের দমনে পুলিশকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন:

  • VIP রাউডি চিহ্নিতকরণ: প্রতিটি থানার ওসি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এলাকায় অন্তত ১০ জন করে প্রভাবশালী দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করতে হবে। কমিশনের ভাষায় এরা হলো ‘ট্রাবল মঙ্গার’।

  • কড়া পদক্ষেপ: এই সব ব্যক্তিদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে আগেভাগেই আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে তাঁরা ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কড়া হুঙ্কার

রাজ্য সফরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত ভোট উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। তাঁর প্রশ্ন:

“সভ্য সমাজে ভোটের সময় কেন বোমা ও গুলির ঘটনা ঘটবে? এই সংস্কৃতি এবার বদলাতেই হবে।”

তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো সরকারি কর্মী বা অফিসার যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২১-এর ‘হিসাব’ চাইছে কমিশন!

সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যেসব এলাকায় হিংসা ছড়িয়েছিল, সেই সময় দায়িত্বে থাকা ওসি এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—সেই সময় তাঁদের বিরুদ্ধে কী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? অর্থাৎ, পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে কমিশন।

ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকেই কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা দেখে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই গুঞ্জন—২০২৬-এ কি সত্যিই বদলাবে বাংলার ভোট-সংস্কৃতি?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy