কলকাতার বেলেঘাটায় রবিবার রাতে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর পার্টি অফিসে বসে থাকা অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, নতুন পাকা বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেড়শ-রও বেশি পরিবার এখনও ঘর পাননি। টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরে চরম অস্বস্তিতে দিন কাটানো বাসিন্দাদের একাংশ এদিন বিধায়ককে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগানও দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত বহু পুরোনো একটি জরাজীর্ণ আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পুরনো জমি ছেড়ে দিলে একই জায়গায় আধুনিক পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং অস্থায়ী টিনের ঘরে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে বাসিন্দাদের।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল ঘোষ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কেএমডিএ (KMDA)-এর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১০ থেকে। বিধায়কের দাবি, নতুন তৈরি হওয়া ফ্ল্যাটগুলি বেশ ভালো এবং ঝকঝকে। তবে কাজ শেষ হতে দেরি হওয়ায় এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে জটিলতা থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, এই প্রকল্পের দায়িত্ব কেএমডিএ-র, ফ্ল্যাট বিলি করার ক্ষমতা বিধায়ক বা কোনো ব্যক্তির নেই।
ঘটনার রাতে তিনি বিক্ষোভের মধ্যে বিজেপির রাজনীতির ছোঁয়া পেয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিধায়ক লেখেন, “গতকাল রাতে যে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান শুনলাম, তাতে বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হয়নি।” যদিও তিনি ফ্ল্যাট পেতে দেরি হওয়ায় বাসিন্দাদের কষ্টের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। সোমবার কেএমডিএ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কুণাল ঘোষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, বিজেপির একাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই বিক্ষোভকে উসকেছে।
তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন, ফ্ল্যাটের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে কেএমডিএ-র কাছে উত্তর চাইতে। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিধায়ক হিসেবে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকার ও কেএমডিএ-র ওপর তিনি চাপ অব্যাহত রাখবেন। রাজনৈতিক তরজার আড়ালে বেলেঘাটার গৃহহীন এই মানুষগুলো কবে তাদের পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।





