রবিবার কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাই-ভোল্টেজ জনসভাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে ছিল রাজনৈতিক পারদ। কিন্তু সেই উত্তেজনার মাঝেই ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের ঠিক কাছেই উদ্ধার হলো বিপজ্জনক জিলেটিন স্টিক। এই ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং কর্নাটক প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গলদ? জানা গিয়েছে, রবিবার যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা ছিল, তার সংলগ্ন এলাকা থেকেই এই বিস্ফোরকগুলি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সাধারণত পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেই রুটিন তল্লাশির সময়েই উদ্ধার হয় জিলেটিন স্টিকগুলি। প্রধানমন্ত্রীর মতো অতি ভিভিআইপি (VVIP) ব্যক্তিত্বের সফরের আগে কীভাবে এই ধরণের প্রাণঘাতী বিস্ফোরক সেখানে এল, তা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
তড়িঘড়ি পদক্ষেপ প্রশাসনের: বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর চাউর হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। তড়িঘড়ি বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিলেটিন স্টিকগুলি উদ্ধার করে এবং এলাকাটি সিল করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সভাস্থল এবং তার আশপাশের এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্নাটক পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
নাশকতার ছক না অন্য কিছু? এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলেও, পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর পেছনে কোনো নাশকতার ছক ছিল কি না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয় হয়েছে। কোনো বড় ধরণের বিপদের উদ্দেশ্যে কি এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, নাকি কোনো নির্মাণকাজের জন্য তা আনা হয়েছিল—সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সভায় বিশাল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সভা শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এই বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনেও তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং পুলিশের তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসছে, সেই সংক্রান্ত সব খবর সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের পোর্টাল।





