বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে ওয়াশিং মেশিন ছাড়া একদিনও চলা দায়। কিন্তু মাস শেষে যখন আকাশছোঁয়া ইলেকট্রিক বিল হাতে আসে, তখন অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে— আসলে কলকাঠি নাড়ছে কোন যন্ত্রটি? বাড়ির অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে ওয়াশিং মেশিন কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বা কতটা ‘বিদ্যুৎখোর’, তা নিয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা অস্পষ্ট। এক চক্কর কাপড় ধুতে ঠিক কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়? উত্তরটা জানলে আপনি চমকে যেতে পারেন।
হিসেবটা আসলে ঠিক কেমন? ওয়াশিং মেশিনের বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে মূলত আপনার মেশিনের ক্ষমতা (Wattage) এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর। সাধারণত একটি আধুনিক অটোমেটিক ওয়াশিং মেশিন ধোয়া এবং শুকানোর (Spin) সময় ৫০০ থেকে ১৫০০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে।
সাধারণ ধোয়া: আপনি যদি সপ্তাহে ৩-৪ দিন আধ ঘণ্টা করে মেশিন চালান, তবে মাসে গড়ে ৫ থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।
হিটারের ব্যবহার: আপনার মেশিনে যদি ‘হট ওয়াটার’ বা গরম জলে কাপড় ধোয়ার মোড অন থাকে, তবে বিদ্যুতের খরচ এক ধাক্কায় ৩-৪ গুণ বেড়ে যেতে পারে। কারণ জল গরম করতে মেশিন সবথেকে বেশি বিদ্যুৎ টানে।
বিদ্যুৎ বিল কমানোর মোক্ষম দাওয়াই: ১. ফুল লোড ব্যবহার করুন: বার বার অল্প অল্প কাপড় না ধুয়ে, মেশিনের ক্ষমতা অনুযায়ী একবারে বেশি কাপড় ধোয়ার চেষ্টা করুন। এতে মেশিনের মোটর বার বার চালানোর প্রয়োজন হয় না। ২. হট ওয়াটার মোড এড়িয়ে চলুন: খুব দরকার না পড়লে গরম জলে কাপড় ধোবেন না। সাধারণ তাপমাত্রার জলেই ৯০ শতাংশ ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। ৩. সঠিক ডিটারজেন্ট: বেশি ফেনা হওয়া ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে মেশিনকে বারবার জল পাল্টাতে ও স্পিন করতে হয়, যা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। ‘হাই-এফিসিয়েন্সি’ ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। ৪. অটো মোড বনাম কাস্টম: যদি আপনার মেশিনে ইকো-মোড (Eco-Mode) থাকে, তবে সেটি ব্যবহার করুন। এটি বিদ্যুৎ ও জল দুই-ই সাশ্রয় করে।





